ফুটবল, ক্রিকেট, হাডুডু বা দড়ি লাফ খেলে সময় কাটাতে নিশ্চয়ই ভালো লাগে তোমাদের। অনেকের তো আবার স্কেটিং, সাঁতার ও ব্যাডমিন্টনের মতো খেলাগুলোও পছন্দের। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে স্কেটিং ক্লাব ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। অনেক অভিভাবকও এখন সন্তানদের এ খেলায় উৎসাহ দিচ্ছেন। এটি শিশুদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে; পাশাপাশি, তাদের আত্মবিশ্বাস ও মনোযোগ বাড়ায়। ফলে, স্কেটিং ধীরে ধীরে তোমাদের প্রিয় খেলায় পরিণত হচ্ছে।
পরিবর্তনের এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্কেটিং অঙ্গনে দেখা দিয়েছে নতুন সাফল্য। গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাতারকুল-এর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আতাহার শিহাব আদিতের হাত ধরে দেশে এসেছে দুটি রৌপ্য পদক। চীনে অনুষ্ঠিত বেল্ট অ্যান্ড রোড চীন-আসিয়ান স্পিড রোলার স্কেটিং সিটি ইনভাইটেশনাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে এই সাফল্য পেয়েছে আদিত। এ বছরের প্রতিযোগিতায় ১৭টি দেশের তিনশ জনেরও বেশি স্কেটার অংশ নিয়েছিল।
আদিত বলে, ‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুটি রৌপ্য পদক পাওয়া আমার কাছে স্বপ্নের মতো। নিজের পরিশ্রম আর নিষ্ঠার ফল দেখতে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। এখন আমি আরও অনুপ্রাণিত। পরেরবার স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য রাখছি। আমার স্কুল ও আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য দারুণ গর্বের বিষয়।’
তার শিক্ষক তানিয়া আক্তার বলেন, ‘আদিত খুব মনোযোগী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাস তাকে এই আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’
বর্তমানে ঢাকায় গড়ে উঠেছে অনেক স্কেটিং ক্লাব। গ্লেনরিচ-এর মতো স্কুলেও এখন নিজেদের স্কেটিং ক্লাব রয়েছে। শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খেলায় অংশগ্রহণও দ্রুত বাড়ছে। আদিতের মতো তোমরাও এই খেলা শুরু করতে পারো। তবে আদিতের স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। পড়াশোনার পাশাপাশি সে স্কেটিং চালিয়ে যেতে চায়। সে আশা করে একদিন দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। তার ইচ্ছা, একদিন বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াবে একজন পূর্ণাঙ্গ স্কেটার হিসেবে।
Published In: Samakal