Glenrich International School

প্রতিদিন নিজেকে গড়া

আমরা একটু খেয়াল করে নিজেদের চারপাশে তাকালেই দেখতে পাই, সব কিছুই পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের চারপাশ প্রতিদিন নতুন করে গড়ছে। তারবিহীন উপায়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলবে—একসময় আমরা এমন কিছু কল্পনাও করতে পারতাম না। আর এখন এটাই আমাদের বাস্তবতা, আমাদের প্রত্যেকের হাতে মোবাইল ফোন।

সেটাও পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় নোকিয়া বাটন ফোন হাতে থাকাটা স্বপ্নের মতো মনে হলেও এখন স্মার্টফোনে প্রতিদিনই কিছু না কিছু আপডেট হচ্ছে, নতুন ফিচার যোগ হচ্ছে।মানুষের জীবনটাও অনেকটা এ রকম। আমরা আগে যেভাবে ভাবতাম, এখন তার চেয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করি।

আমাদের সমাজ ও বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে এটাও ঠিক যে আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা পরিবর্তনে ভয় পান; সারা জীবন একটা অভ্যস্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে কাটিয়ে দিতে চান। কিন্তু আসলে জীবনে এগিয়ে যেতে হলে নিজেকে গড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এর বিকল্প নেই।আমাদের দেশের ডাক্তার বা প্রকৌশলীদের দিকে তাকালে বোঝা যায়, তাঁরা কতটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিদিনই তাঁরা নতুন কিছুর মুখোমুখি হচ্ছেন, নতুন কিছু শিখছেন। নতুন দক্ষতায় নিজেদের দক্ষ করে তুলছেন, কোনো প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের নতুন কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে একসময় তাঁরা পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়েন। এই একই কথা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিশ্ব এগিয়ে চলেছে, অনন্য ধ্যান-ধারণা চারপাশ থেকে বিকশিত হচ্ছে, প্রতিনিয়ত নতুন কিছু আবিষ্কৃত হচ্ছে।
পরিবর্তনের এই প্রয়োজন আমাদের সরকারও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এ কারণেই এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ হয়ে ওঠার পথে রয়েছি। আর এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে স্মার্ট বাংলাদেশ পেতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকেও স্মার্ট হতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে স্মার্ট করে তোলার অংশ হিসেবে সম্প্রতি নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে আসা হয়েছে। কর্মমুখী ও অভিজ্ঞতামূলক এই শিক্ষাক্রম আমাদের শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। প্রতিযোগিতার এই সময়ে তাদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

স্মার্ট এই শিক্ষাক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কিভাবে তারা নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে, কিভাবে নতুন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে, সেই বাস্তবতাকে কিভাবে সমাধান করবে—এসব নির্ভর করে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষ করে এই কর্মমুখী ও অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষাক্রমে দক্ষ শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরো বেড়ে গেল।

নতুন এই শিক্ষাক্রমে স্মার্ট প্রজন্ম গড়ে তোলার উপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেবল চাকরির বাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলা নয়, একই সঙ্গে তাদের উদ্যমী ও উদ্যোগী করে তোলা, যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও সেখান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষার্জন করা এই শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম (এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ) বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজের কাজ নিজে করা থেকে শুরু করে যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব, একতার মনোভাব, একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের প্রবণতার মতো গুণের বিকাশ ঘটবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মকে দক্ষ ও স্মার্ট করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি স্কুল, অভিভাবক, এমনকি বন্ধুবান্ধবেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

আগামী প্রজন্মকে বিশ্ব নাগরিক করে গড়ে তুলতে হলে শেখা ও শেখানো এই দুই ক্ষেত্রেই আমাদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আর নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই হতে পারে এই যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ।

 লেখক : ভাইস প্রিন্সিপাল, দিল্লি পাবলিক স্কুল, ঢাকা

News Link: https://www.kalerkantho.com/print-edition/sub-editorial/2024/02/23/1365907