Glenrich International School

২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রাইভেট টিউটরিং খাতের আকার ২০৮ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাজারের নেতৃত্ব দিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের অনেক দেশে স্কুল শেষে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং সেন্টারের পেছনে ছোটে। আশঙ্কাজনক বিষয়, প্রাইভেট টিউশন গ্রহণের হার ক্রমে বাড়ছে। শিক্ষা এখন এতটাই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে যে, অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের সর্বোচ্চ ফল অর্জনে সম্ভাব্য সব উপায় গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের একাডেমিক সাফল্য নিশ্চিত করতে মরিয়া। এসব কারণে শিক্ষা খাতের সমান্তরালে নতুন খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে প্রাইভেট টিউটরিং বা কোচিং সেন্টার।
ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট ও ব্র্যাকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিক্ষা খাতের ব্যয়ের মোট ৭১ শতাংশ বহন করে পরিবার। আরও উদ্বেগজনক, টিউটরিং শিক্ষাগত সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রাখে কিনা– এটি নিয়ে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।  
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রাইভেট টিউটরিং অনেক বড় জায়গা দখল করে আছে। এটিই শিক্ষা খাতের মূল চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে প্রাইভেট টিউশন স্কুলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে সবাই মিলে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রাইভেট টিউশনের কবল থেকে বের করে আনতে হবে। শিক্ষা খাতের ভিত্তির জায়গা থেকে সব পর্যায়ে পাঠদানের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে আমাদের শিক্ষকদের। তাঁদের পাঠদান পদ্ধতিকে আরও কার্যকরী ও উপভোগ্য করে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা স্কুল নিয়ে অতিরিক্ত চাপ বা ভীতি অনুভব না করে এবং শিক্ষা যেন সত্যিকার অর্থেই তাদের বাস্তবিক জীবনে কাজে লাগে। সুশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তারা যেন ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের প্রয়োজনে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষকদের সহায়তা পায়, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবে। এতে নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের জ্ঞানের গভীরতাও বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে শেখার অভিজ্ঞতার মানোন্নয়ন ঘটবে, যা তাদের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঠদানসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে তাদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা যায়।
স্কুলগুলোকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক এবং একাডেমিকের বাইরে আরও যত্নশীল হওয়া উচিত। স্কুলে সঠিক পাঠদান কৌশল গ্রহণ করা হলে কোনো শিক্ষার্থীর প্রাইভেট টিউশন গ্রহণ বা কোচিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বিকল্প নেই এবং শিক্ষকরাই পারেন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে ও সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা যা পারেন না, শিক্ষকরা তা করতে পারেন। তাই শিক্ষক ও স্কুলকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ ও বিকাশের প্রাথমিক উৎস হতে হবে।    

অধ্যক্ষ, ডিপিএস এসটিএস স্কুল, ঢাকা

Media Link: সমকাল